শীতকালে ঠোঁট ও মুখে ঘা হয় কেন? জেনে নিন ঘরোয়া সবাধান

Posted by:

|

On:

|

[ad_1]

শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যাটি খুব সাধারণ হলেও, এর প্রভাবে মুখের ভেতরের সংবেদনশীল অংশেও দেখা দেয় তীব্র কষ্ট। ঠোঁট ফাটা, ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়া, এমনকি মুখ বা জিহ্বায় ছোট ছোট সাদা বা লালচে ঘা (অ্যাপথাস আলসার বা ক্যানকার সোর) এতটাই বাড়তে পারে যে ঝাল বা মশলাদার খাবার তো দূরে থাক, পানি পান করাও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে। কিন্তু কখনো কী ভেবেছেন, কেন শীতে এই সমস্যা বাড়ে এবং ঘরোয়া প্রতিকারই বা কী? 

চলুন জেনে নেওয়া যাক শীতে ঠোঁট ও মুখে ঘা হওয়ার কারণ ও করণীয় সম্পর্কে- 

শীতকালে মুখের এই সমস্যাগুলো বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু শারীরিক ও খাদ্যাভ্যাসগত পরিবর্তন। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- 

পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন: শীতকালে আমাদের তৃষ্ণা কম অনুভূত হয়, ফলে পানি কম খাওয়া হয়। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে মুখের লালা গ্রন্থি শুকিয়ে যায়, যা শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে (মিউকাস মেমব্রেন) ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মুখে ঘা সৃষ্টি করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: শীতকালে সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বাড়ায় শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এই দুর্বলতার সুযোগে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে ঘা বা আলসার তৈরি করে।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন: অনেকে অতিরিক্ত ঝাল, তেল ও মশলাযুক্ত খাবার খান। এই ধরনের খাবার পেটের সমস্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মুখের সংবেদনশীল ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ঘা হওয়ার অন্যতম কারণ।

ভিটামিনের অভাব: শীতকালে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসায় শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন, জিঙ্ক বা ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি হতে পারে, যা মুখে ঘা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

প্রতিকার ও দ্রুত সুস্থ হওয়ার ঘরোয়া উপায়

সাধারণত, মুখের আলসার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে ব্যথা কমাতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে-

পর্যাপ্ত পানি পান: শীতেও প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মুখের লালা নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকে এবং ঘা দ্রুত শুকিয়ে যায়।

মধু ও হলুদের ব্যবহার: এক চিমটি কাঁচা হলুদের গুঁড়োর সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে ঘা-এর উপর লাগান। মধু ও হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

লবণ-পানির গার্গল: হালকা গরম পানিতে অল্প লবণ মিশিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার কুলকুচি করুন। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ঘা শুকাতে সাহায্য করে।

গ্লিসারিন বা নারকেল তেল ব্যবহার: ব্যথার জায়গায় গ্লিসারিন বা নারকেল তেল লাগিয়ে রাখুন। এতে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং জ্বালা কমে।

যদি আলসার দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, আকারে বাড়তে থাকে, অথবা এর সঙ্গে জ্বর ও তীব্র ব্যথা থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।



মাসুম/সাএ



[ad_2]

Source link

Posted by

in

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *